• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৮ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
ভোটের দিনে লিফলেট বিতরণের দায়ে জামায়াত নেতার অর্থদন্ড নীলসাগর ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ বিশ্ব স্ট্রোক দিবস: স্ট্রোকের ঝুঁকি, রিহ্যাবের সংকট ও পুনর্বাসনে সচেতনতার আহ্বান তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার হত্যা মামলায় মাগুরার সাবেক ওসি ও এসআই জেলহাজতে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে ৯ কর্মকর্তা প্রত্যাহার সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় জলঢাকা পৌরসভার সাবেক মেয়র গ্রেপ্তার রানীরবন্দরে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী ব্যবসায়ী নিহত “ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি

বিদেশি ভাষার কাছে সমর্পিত হচ্ছে নিজস্ব ভাষা

Rashed khanঢাকা: গ্লোবালাইজেশনের নামে বিদেশি ভাষার কাছে আমাদের নিজস্ব ভাষা সমর্পিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি এবং বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।

সোমবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে গবেষনা ও উন্নয়ন কালেকটিভ, ইউনেস্কো এবং সেভ দা চিলড্রেন আয়োজিত ‘মাল্টি লিঙ্গুয়াল এডুকেশন প্রোগ্রাম ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি গবেষনার প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘মাতৃভাষার অধিকার মানুষের মৌলিক অধিকার, জাতীয় শিক্ষানীতিতে অন্তত প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে মাতৃভাষা ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে। তাই আদিবাসি গোষ্ঠীগুলোর মাঝে মাতৃভাষা ভিত্তিক বহুভাষিক পদ্ধতিতে শিক্ষাদানের বিষয়টি প্রশংসনীয়। তবে মূল ছয়টি ভাষার পাশাপাশি বাকী আদিবাসি ভাষাগুলোতেও এ ব্যবস্থা চালু করা উচিৎ।’

তিনি আরো বলেন, ‘মাতৃভাষায় আদিবাসিদের বইগুলো লেখার ক্ষেত্রে রোমান স্ক্রিপ্টে ছাপা হবে না কি তাদের নিজস্ব লিপিতে লেখা হবে তা নিয়ে একটি বিরোধ আছে। আমার মনে হয় তাদের নিজস্ব লিপিতেই বইগুলো ছাপা হওয়া উচিৎ।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মেসবাহ কামাল এ গবেষনার প্রাপ্ত ফলাফল তুলে ধরে বলেন, ‘শিক্ষার হার বাড়ার সঙ্গে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হওয়ার একটি সম্পর্ক আছে। দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীদের তুলনায় আদিবাসি শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার অনেক বেশি। আবার মাতৃভাষায় তারা শিক্ষালাভের ক্ষেত্রে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগে। কিন্তু আদিবাসি ভাষা রক্ষার জন্য এ দ্বিধাদ্বন্দ্ব দূর করা খুবই জরুরী, এজন্য আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আদিবাসি ভাষা রক্ষার জন্য বেসরকারিভাবে ২৯ জেলার ১২৮ উপজেলায় ১০২টি সংস্থা কাজ করছে। বর্তমানে প্রাক-প্রাথমিক এবং প্রাথমিক পর্যায়ে মাতৃভাষা ভিত্তিক বহুভাষিক পদ্ধতিতে ৭৮টি আদিবাসি এবং অ-আদিবাসী গোষ্ঠীর মাঝে শিক্ষাদান চলছে।’

বর্তমানে দেশে বাংলাভাষা ছাড়া আরো ৪৩টি ভাষা প্রচলিত আছে বলে তিনি জানান।

সেভ দা চিলড্রেন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মাইকেল ম্যকগ্রা বলেন, ‘এ দেশে যে পরিমান আদিবাসি জনগোষ্ঠী আছে তাদের সকলের কাছে আমরা এখনও পৌঁছতে পারিনি। আমরা মাত্র ১০ শতাংশ মানুষের কাছে পৌঁছতে পেরেছি, কিন্তু এটি যথেষ্ট নয়। তাই আমাদের অনেক বেশি প্রকল্প নিয়ে তাদের কাছে যেতে হবে। পাশাপাশি মাতৃভাষায় আদিবাসিদের শিক্ষা দেয়ার জন্য ভাষাগত জ্ঞানের সঙ্গে শিক্ষগত যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে।’

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, ‘বাংলাদেশের আদিবাসি ভাষাগুলো এখন হুমকির মুখে পড়েছে, তাই যত দ্রুত সম্ভব ভাষাগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে। বড় কয়েকটি আদিবাসি গোষ্ঠী যেমন- মারমা, চাকমা, খাসিয়া, গারো, সাঁওতাদের ভাষা সংরক্ষণে সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও তা এখন থেমে আছে।’

এ সময় আদিবাসি অধ্যুষিত এলাকার বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকদের অগ্রাধিকার দেয়ার ব্যাপারেও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।’

প্রকাশনা অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, ব্র্যাক এডুকেশন প্রোগ্রামের পরিচালক শফিকুল ইসলাম, ইউনেস্কোর ঢাকা অফিস ইনচার্জ কিচ্চি ওসাউ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নববিক্রম কিশোর ত্রিপুরা প্রমুখ।

উৎস: বাংলামেইল২৪


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ